বান্দরবানে প্রায় ৬ হাজার নবজাতকের জন্মে ধাত্রী রাশেদা বেগমের অবদান প্রশংসনীয়। পাহাড়ি জনপদে মানবসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য কাজী রাশেদা বেগম নামের এক মানবিক মমতাময়ী নারী। তিনি এ যাবৎ প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি নবজাতকের জন্মে ধাত্রীর বিশেষ অবদান রেখেছেন। বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন কাজী রাশেদা বেগম। তিনি একজন সমাজসেবক, সাবেক ইউপি সদস্য এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত আস্থার প্রতীক। রাশেদা বেগম নাইক্ষ্যংছড়ি সদর উপজেলার ১নং ওয়ার্ড এলাকার মসজিদ ঘোনার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত তার দক্ষ হাতে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি নবজাতক শিশু নিরাপদে পৃথিবীর আলো দেখেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়ায় প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা না ভেবে রাশেদা বেগম ছুটে যান প্রসূতি মায়েদের পাশে।
শুধু সন্তান প্রসব করানোই নয়, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা সম্পর্কেও নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। ফলে এলাকার অসংখ্য পরিবার তার প্রতি গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা পোষণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই রাশেদা বেগম বছরের পর বছর নিরলসভাবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তার এই অবদান মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম বাবদ কিছু সরকারী আর্থিক সুবিধা পেলে এই পাহাড়ী জনপদ হয়ে উঠতে পারে শান্তির সমৃদ্ধি এমনটি দাবী উক্ত এলাকাবাসীর।
এ নিয়ে কাজী রাশেদা বেগম বলেন, “মানুষের সেবা করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। একজন মা ও নবজাতক নিরাপদ থাকলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যতদিন সুস্থ থাকব, মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই। এতে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেন, দীর্ঘদিনের এই মানবিক অবদান যথাযথ মূল্যায়ন পাবে এবং রাশেদা বেগমের মতো নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সম্মানিত করার সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন।