পটুয়াখালীর গলাচিপায় আলোচিত আমেনা বেগম হত্যাকান্ড নিয়ে চলছে তালবাহানা এমনটি দাবি বাদীপক্ষের। যায়গা জমি সংক্রান্ত জেরে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর গলাচিপা থানাধীন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের চৌদ্দকানি এলাকার ঘরামী বাড়ীতে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটনার আাসামীরা আজও ধরা না পড়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে মামলার বাদীদের। এ দিকে উক্ত মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি নসু ঘরামী ও আমিনুর মুন্সি জামিনে বের হয়ে বাদীদেরকে জানে মারার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
উল্লেখ্য যে যায়গা জমি সংক্রান্ত জেরে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর গলাচিপা থানাধীন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের চৌদ্দকানি এলাকার ঘরামী বাড়ীতে নতুন একটি ঘর তৈরি কে কেন্দ্র করে লাঠিসোটা নিয়ে বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে লাঠি ও পায়ের লাথির গুরুতর আঘাতে বাদীর মা আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তৎক্ষণাৎ গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মৃতের ছেলে মোঃ শাহিন ঘরামী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলেন, (১) মোঃ নসু ঘরামী, পিতা- মৃত আঃ মজিদ ঘরামী। (২) মোঃ আমিনুর মুন্সি, পিতা- মৃত কালু মুন্সি। (৩) মোঃ রিপন ঘরামী, পিতা- মোঃ নসু ঘরামী। (৪) মোঃ জাহাঙ্গীর ঘরামী, পিতা-মৃত চাঁন মিয়া ঘরামী। (৫) মোঃ শানু ঘরামী, পিতা-মৃত আঃ মজিদ ঘরামী। (৬) মোঃ আনোয়ার মুন্সি, পিতা-মৃত কালু মুন্সি। (৭) মোঃ মাসুম ঘরামী, পিতা- মোঃ কালা মিয়া ঘরামী। (৮) মোসাঃ নাজমা বেগম, পিতা- মোঃ নসু ঘরামীসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন। সর্ব সাং ছোট চৌদ্দকানি ০২ নং ওয়ার্ড, ইউনিয়ন রতনদী তালতলী, থানা গলাচিপা জেলা পটুয়াখালী।
দুঃখের বিষয় হলো উক্ত মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও এখনো আসামীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় আসামীরা ঘোরাফেরা করলেও প্রশাসন যেন নিরব ভূমিকা পালন করছে এমনটি দাবী করেছেন বাদীপক্ষ। ঘটনার সময় তদন্তকারী অফিসার এস আই সোহেল কর্তৃক ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধমে এজাহার নামীয় আসামীকে বাদ দেওয়া বা মুল আসামীদেরকে না গ্রেফতার করে বিভিন্ন তালবাহানা করা এ সমস্ত কার্যকলাপে প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে বাদীরা।
এক দিকে গর্ভধারিনী মাকে হারানোর বেদনা অন্য দিকে আসামীদের জানে মারার হুমকি নিয়ে কোন রকম দিনানিপাত করছে বাদীরা। এ বিষয়ে সঠিক বিচারের দাবী জানিয়েছেন উক্ত মামলার বাদী মোঃ শাহিন ঘরামী। এ নিয়ে মুঠোফোনে উক্ত সংবাদকর্মীকে গলাচিপা ওসি মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ ও মামলার বর্তমান তদন্তকারী সিআইডি অফিসার বিপ্লব সাহেব খুবই দ্রæত সময়ের মধ্যে বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতার করার আশ্বাস দিয়েছেন। আরো বিস্তারিত আসছে পরবর্তী নিউজে।